1️⃣ প্রথম কথা: বন্ধুসুলভ কিন্তু প্রফেশনাল হও
ক্লায়েন্ট যেন মনে করে তুমি বিশ্বাসযোগ্য এবং সহজ মানুষ।
ভুল স্টাইল:
“কাজটা দেন, করে দিবো।”
ভালো স্টাইল:
“ধন্যবাদ যোগাযোগ করার জন্য। আপনার প্রজেক্ট সম্পর্কে একটু বিস্তারিত বলবেন?”
2️⃣ আগে শুনো, পরে কথা বলো
ক্লায়েন্টকে প্রশ্ন করো:
✅ আপনার ওয়েবসাইট কেন দরকার? ✅ ব্যবসার লক্ষ্য কী? ✅ কোন ধরনের ডিজাইন পছন্দ? ✅ বাজেট এবং ডেডলাইন কত?
উদাহরণ:
“আপনার ওয়েবসাইট দিয়ে আপনি কী অর্জন করতে চান?”
এতে ক্লায়েন্ট বুঝবে তুমি শুধু টাকা না, সমাধান দিচ্ছো।
3️⃣ নিজেকে সমস্যা-সমাধানকারী হিসেবে দেখাও
শুধু বলো না “আমি ওয়েবসাইট বানাই” বরং বলো:
❌ আমি ওয়েবসাইট বানাই ✅ আমি এমন ওয়েবসাইট বানাই যা কাস্টমার বাড়াতে সাহায্য করে
উদাহরণ:
“আমি আপনার ব্যবসার জন্য এমন ওয়েবসাইট বানাবো যাতে কাস্টমার সহজে অর্ডার করতে পারে।”
4️⃣ আগের কাজ দেখাও (বিশ্বাস তৈরি হয়)
ক্লায়েন্টকে বলো:
“আমি আগে এই ধরনের প্রজেক্ট করেছি, আপনি চাইলে ডেমো দেখাতে পারি।”
এতে ভয় কমে, বিশ্বাস বাড়ে।
5️⃣ প্রাইস বলার সময় আত্মবিশ্বাসী হও
ভুল:
“আপনি যা দেন…”
ভালো:
“এই ধরনের প্রজেক্টের জন্য আমার চার্জ হবে ১৫,০০০ টাকা। এতে ডিজাইন, ডেভেলপমেন্ট এবং ১ মাস সাপোর্ট থাকবে।”
6️⃣ ক্লোজিং টেকনিক: কাজ নেওয়ার স্টাইল
শেষে এমনভাবে কথা বলো যাতে কাজ শুরু করা সহজ হয়:
“আপনি যদি চান, আমি আজই কাজের একটি প্রাথমিক ডিজাইন তৈরি করে দেখাতে পারি।”
অথবা
“আপনি কবে থেকে কাজ শুরু করতে চান?”
7️⃣ রিয়েল লাইফ ডেমো কথোপকথন (বাংলাদেশি স্টাইল)
ক্লায়েন্ট:
আমার একটা ওয়েবসাইট লাগবে
তুমি:
দারুণ! ওয়েবসাইটটা কী ধরনের ব্যবসার জন্য?
ক্লায়েন্ট:
অনলাইন শপ
তুমি:
ঠিক আছে। আপনি কি চান ফেসবুক অর্ডার হবে, না ওয়েবসাইট থেকেই ডিরেক্ট অর্ডার?
ক্লায়েন্ট:
ওয়েবসাইট থেকেই
তুমি:
পারফেক্ট। আমি এমন একটি সিস্টেম বানাতে পারি যাতে অর্ডার নেওয়া, পেমেন্ট এবং প্রোডাক্ট ম্যানেজ করা সহজ হয়।
8️⃣ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা
👉 ক্লায়েন্টকে মনে করাও — তুমি শুধু ডেভেলপার না, তুমি তার বিজনেস পার্টনার।
নতুন ডেভেলপারদের জন্য ফুল Client Communication Guide (বাংলা)
এই গাইডটি নতুন ওয়েব ডেভেলপারদের জন্য, যেন তারা ক্লায়েন্টের সাথে আত্মবিশ্বাসের সাথে কথা বলতে পারে, বিশ্বাস তৈরি করতে পারে এবং কাজ কনভার্ট করতে পারে।
1️⃣ ক্লায়েন্ট কমিউনিকেশনের মূল লক্ষ্য
তোমার লক্ষ্য শুধু কাজ পাওয়া না —
- ক্লায়েন্টের সমস্যা বোঝা
- সঠিক সমাধান দেওয়া
- বিশ্বাস তৈরি করা
- দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়া
👉 মনে রাখবে: মানুষ ডেভেলপার না, বিশ্বাসযোগ্য মানুষ খোঁজে।
2️⃣ প্রথম কথা বলার সঠিক স্টাইল
❌ ভুল স্টাইল
- "কাজ দেন, করে দেবো"
- "বাজেট কত?"
✅ ভালো স্টাইল
- "ধন্যবাদ যোগাযোগ করার জন্য"
- "আপনার প্রজেক্ট সম্পর্কে একটু বিস্তারিত বলবেন?"
উদাহরণ:
Hello! Thanks for reaching out. Please tell me about your project goals.
3️⃣ ক্লায়েন্টের কাছ থেকে সঠিক তথ্য নেওয়ার প্রশ্ন
প্রয়োজনীয় প্রশ্নসমূহ:
- আপনার ব্যবসার ধরন কী?
- ওয়েবসাইট দিয়ে আপনি কী অর্জন করতে চান?
- আপনার টার্গেট কাস্টমার কারা?
- আপনি কি কোনো রেফারেন্স ওয়েবসাইট পছন্দ করেন?
- বাজেট এবং ডেডলাইন কত?
👉 প্রশ্ন করলে তুমি প্রফেশনাল দেখাবে।
4️⃣ নিজেকে Problem Solver হিসেবে উপস্থাপন করা
❌ ভুল:
আমি ওয়েবসাইট বানাই
✅ ভালো:
আমি এমন ওয়েবসাইট বানাই যা আপনার কাস্টমার বাড়াতে সাহায্য করবে
উদাহরণ:
Your website will help you get more customers and automate orders.
5️⃣ আগের কাজ ও পোর্টফোলিও দেখানো
বিশ্বাস তৈরির জন্য বলো:
আমি আগে এমন কিছু প্রজেক্ট করেছি, চাইলে দেখাতে পারি।
টিপস:
- 2–3টি বেস্ট কাজ দেখাও
- বেশি দেখিয়ে ক্লায়েন্টকে কনফিউজ করো না
6️⃣ প্রাইস বলার সঠিক কৌশল
❌ ভুল:
আপনি যা দেন…
✅ ভালো:
এই প্রজেক্টের জন্য আমার চার্জ হবে ১৫,০০০ টাকা। এতে ডিজাইন, ডেভেলপমেন্ট ও ১ মাস সাপোর্ট থাকবে।
প্রাইস বলার ফর্মুলা:
Price = Scope + Value + Support
7️⃣ কাজের স্কোপ পরিষ্কার করা (Scope of Work)
ক্লায়েন্টকে জানাও:
- কত পেজ থাকবে
- কী কী ফিচার থাকবে
- কতদিনে কাজ শেষ হবে
- কতবার রিভিশন থাকবে
👉 সবকিছু লিখিত রাখো।
8️⃣ ক্লোজিং টেকনিক (Deal Close করা)
ভালো বাক্য:
- "আপনি চাইলে আজই কাজ শুরু করতে পারি"
- "আপনি কবে থেকে কাজ শুরু করতে চান?"
- "আমি একটি প্রাথমিক ডিজাইন তৈরি করে দেখাতে পারি"
9️⃣ ক্লায়েন্টের আপত্তি হ্যান্ডেল করা
আপত্তি: "দাম বেশি"
উত্তর:
আমি কোয়ালিটি, সাপোর্ট এবং লং-টার্ম ভ্যালু নিশ্চিত করি।
আপত্তি: "আরেকজন কম দামে করবে"
উত্তর:
কম দামে কাজ পাওয়া যায়, কিন্তু আমি কাজের মান ও সাপোর্ট নিশ্চিত করি।
🔟 কাজ চলাকালীন কমিউনিকেশন
- প্রতি ৩–৫ দিনে আপডেট দাও
- কাজের প্রগ্রেস শেয়ার করো
- সমস্যা হলে আগে জানাও
👉 এতে ক্লায়েন্টের বিশ্বাস বাড়ে।
1️⃣1️⃣ পেমেন্ট সিস্টেম ও শর্ত
- 30–50% অ্যাডভান্স নাও
- বাকি টাকা ডেলিভারির আগে
- পেমেন্ট মেথড পরিষ্কার রাখো
উদাহরণ:
কাজ শুরু করতে 40% অ্যাডভান্স প্রয়োজন হবে।
1️⃣2️⃣ কাজ শেষ করার পর কী করবে
- লাইভ সাইট বুঝিয়ে দাও
- ইউজার গাইড দাও
- ভবিষ্যৎ সাপোর্ট অফার করো
👉 এতে রিপিট ক্লায়েন্ট পাওয়ার চান্স বাড়ে।
1️⃣3️⃣ বাস্তব লাইফ ক্লায়েন্ট চ্যাট স্ক্রিপ্ট
Client: আমার ওয়েবসাইট লাগবে
You: দারুণ! এটা কী ধরনের ব্যবসার জন্য?
Client: অনলাইন শপ
You: আমি এমন একটি সিস্টেম বানাতে পারি যাতে আপনি সহজে অর্ডার ও পেমেন্ট ম্যানেজ করতে পারেন। আপনার বাজেট কত?
1️⃣4️⃣ নতুন ডেভেলপারদের জন্য গোল্ডেন রুলস
- ক্লায়েন্টকে সম্মান করো
- অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতি দিও না
- সময়মতো ডেলিভারি দাও
- সবকিছু লিখিত রাখো
- সবসময় প্রফেশনাল থাকো